মোঃ আবুল বাসার চৌদ্দগ্রা,ম উপজেলা প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তিতাস নদীর জায়গা বালু দিয়ে ভরাটের অভিযোগে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভরাট করা অংশ থেকে বালু অপসারণের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নবীনগর পৌরসভার লঞ্চঘাটের পূর্ব পাশে তিতাস নদীর প্রায় ২০ শতাংশ জায়গা রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালু ফেলে ভরাট করা হয়। গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) পানির নিচ থেকে বালু জেগে উঠলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সেখানে অভিযান চালায় নবীনগর উপজেলা প্রশাসন। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নদীর জায়গা ভরাটের অভিযোগে ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভরাট করা অংশের বালু সরিয়ে নদীর স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি যে জায়গা ভরাট করেছেন, সেটি তার ক্রয়কৃত বৈধ সম্পত্তি। বিএস রেকর্ড অনুযায়ী ওই জমির মালিক তিনি। নদীর পাড়ে তার ৩৫ শতাংশ জমি রয়েছে, যার মধ্যে ২০ শতাংশ বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। তার দাবি, জায়গাটি নাল জমি এবং হাসপাতালসংলগ্ন হওয়ায় সেখানে শিশু পার্ক নির্মাণের উদ্দেশ্যে ভরাট করা হয়েছে।
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলাম বলেন, সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী ভরাট করা জায়গাটি তিতাস নদীর অংশ। নদী দখল বা ভরাট করার কোনো আইনি সুযোগ নেই। এ কারণে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বালু সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্দেশনা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী জেল বা জরিমানা হতে পারে। একই সঙ্গে ভরাটের কাজে ব্যবহৃত বালু নিলামে বিক্রি করা হবে।
নদী দখল ও ভরাটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, শুধু জরিমানা নয়, তিতাস নদীর দখল-দূষণ রোধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হোক।