
মীর হোসেন মোল্লা: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক রেলপথ মন্ত্রী মোঃ মুজিবুল হকের আপন ভাগিনা কাদৈর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার শুভপুর ইউনিয়ন কাদৈর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলামের নামে ঘুষ বাণিজ্য, বাগান করা, স্কুল মাঠের গাছ কেটে বিক্রি করা, সরকারী বরাদ্দকৃত গাছ লাগানো, ছাত্র ছাত্রীদের অনুপস্থিতিতে দৈনিক ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায়, শ্রেনী শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে অনিয়ম, উন্নয়ন স্বেচ্ছাচারীতাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। সাবেক রেলপথ মন্ত্রী মজিবুল হকের ভাগিনা প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের একক আধিপত্যের কারণে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিবেন বলে জানিয়েছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বজন প্রীতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকসহ একাধিক শিক্ষক ও উচ্চ বিদ্যালয় যোগদান করেন। ইতিমধ্যে বিদ্যালয়টি স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের দোসরদের ইশারায় পরিচালিত হচ্ছে। কাদৈর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি না থাকায়- কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদের খেয়াল খুশিমতে শিক্ষক শিক্ষিকারা উক্ত বিদ্যালয়ের ক্লাস নিচ্ছেন বলে সূত্র জানিয়েছেন। তাছাড়া বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি না থাকার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে, উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা সরকারের নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্কা না করে ক্লাস নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষক নিয়োগ কমিটিকে হাত করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অনেক শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তারপর প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষক স্কুলে নিজের খেলায় খুশি মতো যাওয়া-আসা করতেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতা আসার পরও প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম কাউকে পরোয়া না করে ক্লাস বা অন্যান্য বিষয়ে সরকারি নিয়মনীতি লঙ্ঘনও করে আসছেন। স্থানীয়রা জানায়, বিষয়টি জানাজানি হলেও প্রভাবশালী ছত্রছায়ায় থাকায় নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি উপজেলা প্রশাসন।
সরকারের পতনের পর বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী পন্থি প্রধান শিক্ষকদের পদত্যাগ ঘটলেও তিনি কৌশলে স্থানীয় জামায়াত বিএনপির কিছু নেতাকর্মীদের আশ্রয় নেন। ফলে বৃহত্তর এমন আওয়ামী পরিবার হয়েও সবাইকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে নিজের জায়গায় তিনি অটুট রয়েছেন। এবিষয়ে সরেজমিনে গেলে প্রকাশ্যই বিদ্যলয়ের একজন দাতা সদস্য শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের সামনে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে- ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছেন।