
রাশেদুল ইসলাম পারভেজ: বিএনপি মূলত বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনীতি করে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী একটি নির্দিষ্ট ধর্মভিত্তিক ও ক্যাডার ভিত্তিক গুপ্ত দল। বিএনপি নেতারা প্রায়ই দাবি করেন যে তারা জনগণের অধিকার ও দেশের সার্বিক সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী, যেখানে জামায়াতের কট্টরপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মসূচি অনেক সময় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি’র পক্ষ থেকে জামায়াতের বিরুদ্ধে নির্বাচনী নানা অনিয়ম এবং ক্যাম্পাস বা স্থানীয় পর্যায়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিএনপি নেতাদের একাংশের মতে, জামায়াতের এমন অবস্থান দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ ও অর্থনৈতিক সংস্কারের গতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
বিএনপি সব সময় উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের রাজনীতি করে এসেছে, অথচ জামায়াতে ইসলাম অতীতে বারবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। স্বাধীনতার সময় সংখ্যা লগু সম্প্রদায় জামায়াত ইসলামের নেতাদের হাতে নানাভাবে নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছিল। ১৯৮৬ সালের সামরিক শাসকের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে জামায়াত জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছিল—যার বিরূপ প্রভাব এখনো সমাজকে বহন করতে হচ্ছে। সর্বশেষ স্বৈরাচার হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগে জামায়াতী নেতারা সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক লুটপাট- চাঁদাবাজি চালায়। ইউনুস সরকার গঠনের পর থেকেই সারাদেশে জামায়াত নেতাদের সীমাহীন দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসের কারণে থমকে যায় দেশের উন্নয়ন। সারা দেশের তুলনায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সীমাহীন চাঁদাবাজি এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে অনেক বেশি, আওয়ামী লীগের নেতাদেরকে নিরাপত্তা দিয়ে নিরাপদে রেখে এবং তাদের টেন্ডারকৃত অসমাপ্ত রাস্তাঘাট পুল কালভার্ট এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের সমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে দেয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে, চৌদ্দগ্রামের জামায়াতের নেতারা আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি জনগনের ভোট ডাকাতি করে এমপি নির্বাচিত হওয়ার চিন্তা কখনোই করেনি। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম- সাধারন সম্পাদক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ কামরুল হুদা চৌদ্দগ্রামের সাধারন মানুষের ভোট চুরি করে এমপি হওয়া আশা অতীতেও করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবেনা। কারন কামরুল হুদা গ্রহনযোগ্যতা এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যোগ্যতার লড়াই যথেষ্ঠ প্রমাণ দিয়েছে। সুষ্ঠু পরিবেশের মাধ্যমে সাধারন ভোটারদের দেয়া মূল্যবান ভোটে নির্বাচিত হওয়ার জন্য তিনি ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহন করে ছিলেন। কামরুল হুদা ভাইয়ের বিজয় শতভাগ নিশ্চিত দেখে দিশেহারা হয়ে, জনপ্রিয়তার কোনঠাসা পড়ে থাকা জামায়াত ইসলামীর নায়েবে আমীর ডাঃ তাহের অবশেষে ভোট চুরি করার পথ বেছে নিয়ে- অন্যায়ভাবে জনগনের অনিচ্ছায় এমপি হয়েছেন। ফলে জামায়াত ইসলামী চোর ও ভোট কারচুপিকারীদের দল হিসেবে জনগন চিহিত করে রেখেছেন । ভোট ডাকাতি ছাড়া তাদের পক্ষে ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয় বলে তারা একতরফা দাঁড়িপাল্লা পাল্লায় সীল মেরে, ভোট ডাকাতির মাধ্যমে এমপি হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোঃ মীর হোসেন মোল্লা। শনিবার বিকেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান।
চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর হোসেন মোল্লা আরো বলেন, কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসনে নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হলেও জনগণ অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারেনি।
তিনি বলেন, জামায়াত ইসলামীর গুপ্তরা খুব ভালো করেই জানে যে, অতীতের অপকর্মের কারণে তারা জনগণের দেয়া ভোটে জামানত হারানোর সম্ভাবনা অনেকটাই বেশী ছিল। কারন চৌদ্দগ্রামের জনগণ তাদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না। শান্তিপূর্ন পরিবেশে এবং নিজেদের যোগ্যতার লড়াইয়ে কামরুল হুদার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, ডাঃ তাহের জনগণের ভোটে কখনোই এমপি নির্বাচিত হতে পারবেনা বলেই তারা নির্বাচনের দিন ভোট ডাকাতি করার পথ খুঁজে নিয়েছেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা মীর হোসেন মোল্লা বলেন, চৌদ্দগ্রাম বিএনপি সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী দল। কামরুল হুদা ভাইয়ের সঙ্গে জনগণ আছে, আমাদের শক্তি আমাদের জনগণ। কামরুল হুদা ভাই প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান থেকে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম সহ চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন রাস্তাঘাট পুলকালভার্ট সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অনুমোদন ইতিমধ্যে নিয়ে এসেছেন। চৌদ্দগ্রামের জনতার এমপি জননেতা জনাব কামরুল হুদা ভাই আগামী ৫ বৎসর জনতার এমপি হিসেবে চৌদ্দগ্রামের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাবেন। এটা আমার মুখের কথা নয়- সরকারী সিদ্ধান্ত।
মীর হোসেন মোল্লা আরো বলেন, ভবিষ্যতে চৌদ্দগ্রামে যত উন্নয়নমূলক কাজ হবে, সকল কাজ চৌদ্দগ্রামের জনতার এমপি কামরুল হুদার হাত ধরেই হবে বলে- ইতিমধ্যে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের নেতারা সবুজ সংকেত দিয়েছেন।
চৌদ্দগ্রাম বিএনপি ও সহয়োগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অতীতের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে কামরুল হুদা ভাইয়ের নির্দেশে সবাইকে কাজ করতে হবে। কারন ফ্যাসিবাদী শক্তি ও গুপ্ত বাহিনীর ষড়যন্ত্র এখনো বিদ্যমান, তাই সকল বিভেদ ভুলে সবাইকে একত্রে কাজ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। জনগণের ক্ষমতার উৎস ধরে রাখতে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার এবং তাদের কল্যাণে কাজ করার জন্য কামরুল হুদা ভাই সবসময় নির্দেশ দিয়ে আসছেন। আমরা সবাই সবার অবস্থান থেকে জনগনের কল্যানের জন্য কামরুল হুদা ভাইয়ের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করার অঙ্গিকার করতে হবে।
তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে চৌদ্দগ্রামে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে। রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণ না করে টাকা উঠিয়ে নেওয়ার হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে বন্ধ থাকা কাজগুলো নতুন করে টেন্ডারের পদক্ষেপ নিয়েছেন। শীঘ্রই পুনরায় কাজগুলো চলমান হবে। বর্তমান সরকার মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন সমাজ এই সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। অপরাধীকে আইনের কাছে পৌঁছে দিন।